জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে স্কুল ছুটির নোটিশ
Published on Tuesday, August 4, 2026
জুলাই গণঅভুথান দিবস বাংলাদেশের একটি জাতীয় দিবস, যা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে প্রতি বছর ৫ আগস্ট পালিত হয়।
ঘটনার পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলন অরাজনৈতিক ছাত্র প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংস দমন-পীড়নের ফলে শত শত আন্দোলনকারী নিহত হন। আন্দোলনটি দ্রুত গণআন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে সাধারণ জনগণও অংশগ্রহণ করে, এবং দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জবাবদিহি ও পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়
প্রধান ঘটনা
- ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে রাজধানী ঢাকায় লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়।
- আন্দোলনের চাপের ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছাড়েন, যা তার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়
- এই দিনটিকে আন্দোলনকারীরা ৩৬ জুলাই নামে অভিহিত করতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র দিবস বা জাতীয় মুক্তি দিবস হিসেবে উল্লেখিত হয়
- ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব আসে এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুমোদিত হয়
- ২৫ জুন ২০২৫ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬ জুলাইকে "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস" ঘোষণা করে এবং এটি ক শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়
- ২ জুলাই ২০২৫ থেকে দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিবসটি উদযাপন করে
তাৎপর্য
জুলাই গণঅভুথান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুর্নীতি, স্বৈরাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ জনগণের প্রতিরোধ। এর মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। দিবসটি পালনের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের সম্মান, কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়
সমসাময়িক উদযাপন
প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে দিবসটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে উদযাপিত হয়। রাষ্ট্রপতি ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান। দিবসটি জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনা উদযাপনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়